Thursday, 3 August 2023

আতঙ্কিত রাতের কথা

বিপাশা একা একা বাড়ি ফিরছিল।
সে কয়েক বছর বাড়ির বাইরে মানে শহরে গিয়েছিল তার চাকরির ট্রেনিং এর জন্য,আজ ট্রেনিং শেষ হতেই তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরতে গিয়ে ট্রেন টা লেট করলো আর দেরি হয়ে গেলো।
এখন প্রাই রাত ১০ বাজে,রাস্তাঘাট নির্জন ছিল,কেউ কোথাও নেই শেষ বাসে করে বাড়ির রাস্তায় তাকে নামিয়ে দিলো।এখান থেকে
তার বাড়ি প্রাই ১৫ মিনিট হাটতে হয় কিন্তু এতো টা পথ কোনো জনমানস নেই একা একা অনেক দিন পর সে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল কিন্তু এইসব চিন্তা করতেই সে একমাত্র শব্দ শুনতে পাই তা হল পাতার গর্জন।সে ভয় পেলো বুকটা তার ভাড় হয়ে এলো,সে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ শুনতে পেল কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।তার হাত ঠান্ডা হতে লাগলো,ডিসেম্বর মাসের ঠান্ডা একটুও হাওয়া নেই তাও সে ঘেমে উঠলো।
এইসব এর মধ্যে সে তার নাম টা শুনতে পেলো খুব চেনা কণ্ঠে।
(আনবিক)
বিপাশা ওই বিপাশা কি রে দাড়া দাড়া একটু ওই..
সে বুঝতে পেলো তার পুরানো বন্ধু,আনবিক,যাকে সে কয়েক বছরের পর বছর দেখেনি।এবার সে একটু গা ছমছম ভাব টা কাটিয়ে উঠলো!
আনবিক তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো -
এতো দিন পর এতো রাতে কোথায় যাচ্ছিস!
বিপাশা ব্যাখ্যা করে বললো যে সে বাড়ি যাচ্ছে,
বিপাশা বললো - এইতো আজ ই আমার ট্রেনিং শেষ হলো তাই আর দেরি না করে বাড়ি চলে আসলাম কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আজই ট্রেন টা লেট করলো তাই আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেলো।
আনবিক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলো,
আনবিক বললো - চল আমি তোকে পৌঁছে দিই তোর বাড়ি এতটা পথ তুই একা যাবি..
বিপাশা তার পুরানো বন্ধুকে দেখে খুশি হয়েছিল এবং তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল।
বিপাশা বললো - বা! এটা ভালোই হয়েছে একটু গা ছমছম করছিল ঠিকই সত্যিই তুই আছিস এখন আর চিন্তা নেই,গল্প করতে করতে সময় কেটে যাবে,চল তাহলে!
তারা পুরানো সময়ের কথা বলেছিল এবং একে অপরের জীবনের কথায় সাথে জড়িয়ে গেল।

আনবিক তাকে বলছিল যে সে শহরে ফিরে গেছে এবং এখন একটা দোকানে কাজ করছে।চাকরি পাইনি তাই এই অবস্থা নিজেকে চালাতে গেলে কিছু তো করতেই হয়।
বিপাশা বললো - ভালো করছিস শুনে খুশি হলাম।
তারা যখন বিপাশার বাড়ির কাছাকাছি প্রায়ই চলে এসেছিল,তারা লক্ষ্য করল যে কিছু একটা ভুল হয়েছে।রাস্তার আলো জ্বলছিল কিন্তু একটা ভয়ঙ্কর নীরবতা ছিল সেখানে। আনবিক বিপাশা কে সাবধানে থাকতে বললো এবং ব্যাপার টা ঠিক কি সেটা যাচাই করতে গেলো।
আনবিক বললো - তুই দাড়া একটু আমি ব্যাপার টা একটু দেখে আসি অসুবিধা হবে না,আমি আসছি!
কয়েক মিনিট পরে,বিপাশা একটু এগিয়ে যেতেই বিকট শব্দ শুনতে পেল,তারপরে একটি বেদনাদায়ক আর্তনাদ।
বিপাশা ছুটে গেলো যেখানে আণবিক ছিল,শুধুমাত্র তাকে মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখতে পায়।
বিপাশা আতঙ্কিত হয়ে উঠল এবং তাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল,কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।আণবিক মারা গিয়েছে।
বিপাশা হতবাক হয়ে পড়ল,সে এখন কী করবে বুঝতে পারছিল না। সে কিছুক্ষণ পর তার থমথমে ভাব টা কাটিয়ে তার বাড়ির পাশের মানুষদের কে জানালো ব্যাপারটা,
সেখান কার মানুষেরা পুলিশকে ডাকা হলো,এবং আনবিক এর দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো,বিপাশা ও সাথে গিয়েছিল।
ও দিকে অফিসাররা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে আণবিক একজন অজ্ঞাত আততায়ীর দ্বারা আক্রমণ ও হত্যা হয়েছে।
সেদিন রাতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী জানাযায় যে আনবিক বিপাশা র সাথে দেখা হওয়ার প্রায় আধঘন্টা আগে নিহত হয়েছে।
বিপাশা এমন খবর শুনে হতবাক হয়ে গেলো
সে ভাবলো - এটা কি করে সম্ভব,!নিশ্চয়ই ডাক্তারের রিপোর্টে কোনো ভুল হয়েছে,
বিপাশা সেদিন সারারাত এই ঘটনা র কোনো একটা ঠিক সিধান্তে আসতে পারছিল না।

এদিকে আনবিক এর মৃত্যুর খবর ছোট শহরকে নাড়া দিয়েছিল এবং বিপাশা ওই দিন থেকে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল।
সে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তার পুরানো বন্ধু চলে গেছে,যার সাথে সে ছোটো থেকে কতো সুন্দর মূহুর্ত কাটিয়েছে, সবরকম অবস্থা তেই তার পাশে ছিল আনবিক সে যেরকম ই পরিস্থিতি হোক না কেন!কিন্তু সে তার যোগ্য দাম কখনো দিতে পারিনি সে কখনো আনবিক কে জানাতে পারেনি সে তাকে মন থেকে চাইতো, সে জানতো তারা মনে মনে দুজনেই দুজন কে খুব ভালোবাসতো সম্মান করতো, কিন্তু সে নিজেকে অপরাধী মনে করেছিল যে সে তাকে বাঁচাতে কিছুই করতে পারেনি।তাছাড়া ও সে ডাক্তারের রিপোর্টে র কথাটাও মন থেকে মুছে ফেলতে পারছিল না।সে ভেবে দেখলো ছোট থেকেই আনবিক তার জন্য যে কোন বিপদ ই হোক না কেন কেউ পাশে না আসলে আনবিক সবসময়ই তার পাশে থেকেছে তাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করেছে।সেদিন রাতেও আনবিক তার ভয়ের সঙ্গী হয়ে তাকে সাতে থেকেছে কিন্তু সে যে মানুষ টার সাথে এতো কথা বললো সে কি জীবিত ছিল না অন্যকিছু সে আর ভাবতে পারেনা বুকটা তার ভার হয়ে আসে চোখ ছলছল করে উঠে।

মাস কেটে যায়, এবং আনবিক হত্যার তদন্ত ঠান্ডা হয়ে যায়।
বিপাশা জীবনের নিয়মে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল,কিন্তু সেই রাতের স্মৃতি তাকে তাড়িয়েবেড়িয়েছে দিনের পর দিন।
সে প্রায়ই ভাবত যে সে যদি একা বাড়িতে হেঁটে যেতো,বা যদি সেদিন তাকে একা ছেড়ে না যেতো সাথে আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারতো তবে কী এমনটা হত?সেদিন ঠিক কোন ঘটনা টা আগে ঘঠেছিল আণবিক এর মৃত্যু না কি তার সাথে ভয়াবহ রাত কাটানো মূহুর্ত!
শেষ পর্যন্ত, বিপাশা জীবনের এই ঘটনা জীবনে মানুষ টার প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান বাড়িয়ে দেয় এমন কি আনবিক এর কাছে শুধু মুখ বুঝে তার সবসময় পাশে থাকা তাকে সাহায্য করা সত্যি এমন মানুষ সত্যি ই কি হতে পারে যে কিনা মৃত্যুর পরেও তার কর্তব্যের কথা ভুলে যায়নি তার এমন ভালো রেখে ভালোবাসা তার দাম টা সে কখনো দিতে পারবে না এই জীবনের ঋণের বোঝা নিয়ে তাকে বইতে হবে।বিপাশা আণবিক কখনও ভুলে যায়নি।কিন্তু জীবনের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে কতক্ষণ ই বা একটা মৃত মানুষ কে মনে রাখতে পারে মানুষ?

              রাজু সরকার (11 April 2023)

শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা

হালো!আণবিক?আমি বিপাশা বলছি! ওপার থেকে রং নাম্বার বলে রেখে দেয় ফোনের রিসিভার টা। আজ ওর কথা টা মনে পরতেই ওর পুরোনো নাম্বার টা ই ফোন করে ওর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কেন যে এমন খামখেয়ালি অবান্তর ইচ্ছে হয় যার কোনো মানে নেই।। সত্যিই যানে নেই।

ওর সাথে আজ ১২ বছর হলো কথা নেই।একটা সময় ছিল যেমন করেই হোক আমার জন্মদিন টা তে সবার প্রথমে সে আমাকে শুভ জন্মদিন বলে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতো

প্রত্যেক টা জন্মদিন এই নতুন নতুন ভাবে আমাকে উইশ করতো।একবার তো আমার বাড়ির দোতালায় ব্যলকনি তে রাত ঠিক ১২ টাই এসে এক গুচ্ছ গোলাপ দিয়ে বলেছিল তোর প্রত্যেক জন্মদিন এর জন্য একটা করে ফুল দিলাম। জানিনা পরের জন্মদিন গুলো তে থাকতে পারবো কিনা!সত্যি আজ সেই কথার মূল্য টা বুঝতে পারি কেন সে এমন বলেছিল।আজ রাত ১২ টা বাজলেই আমার জন্মদিন এর শুভেচ্ছা জানাবে
সমস্ত সোসাল প্লাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে ফেসবুকে থেকে আসবে নানা রকমের ম্যাসেজ উইশ শুধু আসে না তার ফোন টা।
জানি না কেন আজ খুব ইচ্ছে হচ্ছে পুরনো দিন টাই ফিরে যেতে বৃষ্টি র দিনে এক ছাতায় দুজনে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরতে, সেদিন তো আমি ছাতা আনতে ভুলেছিলাম বলে তুই শুধু আমার দিকে ছাতাটা ধরে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এসেছিলি নিজে ভিজেছিলি আমি ভিজবো না বলে বৃষ্টি তে আমার শরীর খারাপ করবে তাই তখন কতই বা বয়স আমাদের তোর ১৬ আমার ১৭ তা যাই হোক প্রাইমারি স্কুল ছুটি হলেই যখন পুরো স্কুল টা ফাকা হয়ে যেতো আমি আর তুই কতক্ষণ যে বসে বসে গল্প করতাম তা আর সময় জ্ঞান থাকতো না সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে যেতাম আজ কেন যে এতো বার করে সব এক এক করে মনে পরছে বুঝতে পারছিনা।আর মাত্র কয়েকটা মিনিট ব্যাস তারপর যতসব সমস্ত উইশের ভীড়ে হাজার কথার কোরাসে হারিয়ে যাবে তোর চিন্তা গুলো আবার ব্যাস্ত হয়ে পরবো জীবনের নিয়মে কিন্তু এই যে তোর কথা গুলো ভাবছি বেশ লাগছে
কিন্তু সময় টা যেন খুব তারাতাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। ওই শুরু হলো, ১২ টার ঘন্টা ঢং ঢং ঢং... হ্যালো কে

ওপার থেকে খুব চেনা একটা শব্দ ভেসে এলো ফোনের স্পিকারে

আমি কেপে উঠলাম সারা শরীর টা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমার

আণবিক? তুই এখনো বে....চে... 

হ্যা আমিই! না আমি বেচে আছি কি মরে গেছি জানিনা, তবে তুই যে আজ এতো করে আমাকে মনে করছিলি তা আমি তোর মনের ডাক গুলো শুনতে পেয়ে ঘুম টা নষ্ট হয়ে গেল ভেঙে গেল আমার গভীর নিদ্রা। শোন না শুভ জন্মদিন তুই অনেক অনেক ভালো থাক সুখে থাক আরো ১০০ বছর এই দিনটা তোর জীবনে আসুক সংসার র সত্যি ধন্যি মেয়ে তুই বাড়ির যোগ্য বৌ সারাদিন কতো কাজ করিস মুখ বুঝে সব কি সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়ে ছিস সকাল বেলা তোর বর কে ব্রেকফাস্ট টিফিন করে আবার মেয়ে কে তৈরি করে স্কুলে নিয়ে যাস আবার বাড়ি ফিরে শশুর কে সেবা করিস তার খেয়াল রাখিস অসুস্থ মানুষ টা তোকে কতো ভরসা করে সেও তো এতো দিন তোর যত্নের জন্য বেচে আছে নইলে তো কবেই চলে যেতো সবরকম পরিপূর্ণ অন্যনা তুই তোর মতো একজন তোর বর সত্যি ই ভাগ্যবান। যাই হোক আজ তোর ডাকে ঘুম থেকে জেগে গেলাম অনেক বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিলাম ইসস সে কি ঘুম তুই এতো করে ডাকলি ঘুম টা না ভেঙে পারলো না।তোর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারি?? আমি তো এমনই ছিলাম রে আমি শুধু তোর ই ছিলাম। যাই রে টাটা।চিন্তা করিস না আমিও ভালোই আছি গভীর নিদ্রার দেশে।টাটা।

আমার হাত থেকে তখন ফোন টা পরে গেলো আর আমার ১০ বছরের মেয়ে টা কখন যে এসে আমার কোলে বসে গালে চুমু দিয়ে Happy Birthday বলে দিল ব্যাস সেই যে আরো কতো ফোন আসতে শুরু করলো আমি ধন্যবাদ আর থাংকস দিয়ে পারিনা।
     
  1st March 2013/01:50PM

Monday, 3 July 2023

সালটা 2013

জীবনের প্রথম ভালোবাসা র মানুষ টা দের বছর সম্পর্কে র পর অন্য একজন কে বিয়ে করেছিল! বলেছিল ওর বাবার একটা অসুখ আছে খুব শিগগির তিন মাসের মধ্যেই মারা যাবে বেশিদিন বাঁচবে না এই বলে ওর বাবার পছন্দের সজাতি ছেলে কে বিয়ে করেছিল। আজ ১৩ বছর ওর বাবা খুব ভালো আছে,ভালো থাকুক আরও অনেক দিন। কিন্তু আমি জানতে পারলাম না আমাকে মিথ্যা বলে কি প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

Saturday, 10 June 2023

আমার দেখা একটা স্বপ্ন

 কোথায় যেন যাচ্ছি সেই পাহাড় থেকে নিচে নেমে একটা দোকানেএকটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তাকে দেখতেই কেমন যেন গান করতে ইচ্ছে হলো সেই মেয়েটা আমাকে দেখে কেমন রেগে গেলো তারপর আমি যেখানে যাবো সেও সেখানেই যাচ্ছিল ও আগে আমি পরে,তারপর কিছু মানুষ তাকে ডিস্টার্ব করছিল তার দিকে বাজে ভাবে দেখছিল সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল, জানি না যেতে যেতে আমরা একটা ভাঙা বাড়ির মধ্যে চলে যাচ্ছিলাম ,প্রথমে বুঝতে পারিনি কেমন জায়গা পড়ে বুঝতে পারলাম ওটা একটা লাভার্স পয়েন্ট 😇🥰অনেক কাপল রা গল্প করছে প্রেম করছে আর এমন একটা জায়গায় আমি একটা গান জুড়ে দিলাম🤩আর আমি নিজেই জানিনা এতো ভালো গান টা পুরো একটা গায়কের মতো করছিলাম,,আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম!,😱

তারপর জানিনা আমার বন্ধুরা আসলো যদিও তাদের একজনকে ও আমি চিনিনা কিন্তু আমার খুব ভালো বন্ধু আমার তারা এসে আমাকে ওই মেয়ে টাকে আমার ভালো লাগার কথা টা বলার জন্য সাহস দিলো কিন্তু কি আশ্চর্য মেয়েটা আমার গান শুনেই আমাকে পছন্দ করেছিল শুধু আমি তার পাশে গিয়ে গান করতে করতে হাটতে লাগলাম আর আমরা দুজন দুজন কেই পছন্দ করে ফেললাম।এবার আমরা হাতে হাত রেখে প্রেম আলাপ করছিলাম আমরা ভালোবাসায় মিশে গিয়েছিলাম আর ঠিক মিশে যাওয়া মূহুর্তে অদ্ভুত কান্ড পুলিশ আসলো এক হোমড়াচোমরা দেখতে এসে বেশি বারাবাড়ি করছিল সবাই কে ডিস্টার্ব করছিলো।সবাই তাকে ভয় পাচ্ছিল কিন্তু আমাদের কাছে আসতেই আমার রাগ হলো আর আমার চোখ দেখে সে ও আমাকে তার বারাবাড়ি টা আরও যে দ্বিগুণ করে দিল আর তখন আমার থেকে আমার ওই ভালোবাসার মানুষ টাকে আলাদা হতে বলল জানিনা আমি তেড়ে গেলাম কিন্তু অনেক কিছু উত্তর দিয়েছিলাম ওই পুলিশ টাকে সে আমার ন্যায্য উত্তর শুনে চলে গিয়েছিল,(কিন্তু আমার একটা কথাও ওই উত্তর বা জবাব গুলো মনে নেই মনে করতেই পারছিন) আর তখন সব লাভার্স বা কাপলস রা তখন হাত তালি দিতে দিতে আমাকে আর আমাদের কে সম্বর্ধনা দিচ্ছিল।

এটা কোনো বানানো গল্প না এটা আমি আজ 9 June 2023 দুপুর বেলা স্বপ্ন দেখলাম তারপর আরও একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম একটা সাউথ এর হিরো কে নিয়ে যার নাম বিশাল সে তার বানানো সিনেমা টা রিলিজ করার আগে চেক করছিল সব এডিট ঠিক ঠাক আছে কিনা কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল সে সমস্ত সিনেমা হলে গিয়ে দেখছিল সিনেমা শুরু হওয়ার আগে কিন্তু একটা সিন এদিক ওদিক হয়ে গেছে আর আমি ওখানে উপস্থিত ছিলাম সে খুব দুঃখ করছিল।আমি একটা বুদ্ধি বের করে ছিলাম কিন্তু সেটা খাটানোর আগেই আমার ঘুম ভেঙে গেল দেখলাম আমার বাড়ির বারান্দায় অন্ধকার আকাশে কালো মেঘ বৃষ্টি আসবে সামান্য ঝড় এসেছে...

Thursday, 11 May 2023

স্টেশনে পুনর্মিলন

EXT. ট্রেন স্টেশন - দিন

সারা এবং জেসন একে অপরকে শেষবার দেখে সাত বছর পার হয়ে গেছে। কলেজে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল কিন্তু স্নাতক শেষ করার পরে, তারা তাদের আলাদা পথে চলে যায়। এখন, কাকতালীয়ভাবে, তারা একই ট্রেন স্টেশনে নিজেদের খুঁজে পায়।

সারাহ একটি বেঞ্চে বসে আছে, জেসন কাছে এলে তার ফোনের মাধ্যমে স্ক্রোল করছে।

জেসন:
(উত্তেজিত হয়ে)
সারাহ?

সারাঃ
(চমকে উঠে)
জেসন ! ও মাই গড, এটা কি তুমি?

জেসন:
(আনন্দে)
হ্যা, এটা আমি! আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সাত বছর হয়ে গেছে।

সারাঃ
(অবাক হয়ে)
আমি ঠিক জানি? আপনি এখানে কি করছেন?

জেসন:
(হাসি)
আমি একটি বিজনেস মিটিং এ যাচ্ছি। তোমার কী অবস্থা?

সারাঃ
(দুঃখের সাথে)
আমি এখানে আমার দাদীকে বিদায় জানাতে এসেছি। তিনি গতকাল মারা গেছেন।

জেসন:
(সহানুভূতিশীলভাবে)
আমি এটা শুনে খুব দুঃখিত, সারাহ.

সারাঃ
(কান্না করে)
ধন্যবাদ, জেসন. এটা কঠিন দিন কয়েক হয়েছে.

জেসন:
(সম্পর্কিত)
তোমার কোন কিছু দরকার? আমি কি তোমাকে কোন কিছুতে সাহায্য করতে পারি?

সারাঃ
(মাথা নাড়িয়ে)
না ধন্যবাদ. আমি এটা প্রশংসা করি, যদিও.

তাদের মধ্যে এক মুহূর্ত নীরবতা রয়েছে, এবং সারা জেসনের দিকে তাকায়, তার চেহারা নিয়ে। তার দাড়ি বেড়েছে, এবং তাকে আরও পরিপক্ক দেখাচ্ছে।

সারাঃ
(হাসি)
তোমাকে ভালো লাগছে, জেসন। আপনি কি করেছেন?

জেসন:
(হাসি)
ধন্যবাদ, সারাহ. আমি ফাইন্যান্সে কাজ করছি। এটি ব্যস্ত ছিল, কিন্তু এটি বিল পরিশোধ করে। তোমার খবর কি?

সারাঃ
(দীর্ঘশ্বাস)
আমি এখন একজন শিক্ষক। এটি সবচেয়ে গ্ল্যামারাস কাজ নয়, তবে এটি ফলপ্রসূ।

জেসন:
(মুগ্ধ)
এটা আশ্চর্যজনক, সারাহ. আমি সবসময় জানতাম আপনি একজন মহান শিক্ষক হবেন।

সারাঃ
(হাসি)
ধন্যবাদ, জেসন. তোমাকে আবার দেখে ভালো লাগছে।

জেসন:
(মাথা নাড়িয়ে)
তোমাকেও দেখে ভালো লাগছে, সারাহ।

তাদের মধ্যে নীরবতার আরেকটি মুহূর্ত আছে, এবং সারা একটি গভীর শ্বাস নেয়।

সারাঃ
(মৃদুস্বরে)
আমি দুঃখিত আমরা স্পর্শ হারিয়েছি, জেসন.

জেসন:
(ক্ষমাপ্রার্থী)
এটা ঠিক আছে, সারাহ. জীবন শুধু ব্যস্ত হয়ে গেছে, জানেন?

সারাঃ
(মাথা নাড়িয়ে)
হ্যাঁ আমি জানি. কিন্তু আমি আপনাকে মিস করেছি.

জেসন:
(হাসি)
আমি তোমাকে খুব মিস করেছি, সারাহ.

তারা কয়েক মুহূর্ত নীরবে বসে থাকে, শুধু একে অপরের উপস্থিতি গ্রহণ করে।

সারাঃ
(তার ফোনের দিকে তাকিয়ে)
আমি সম্ভবত যেতে হবে.

জেসন:
(মাথা নাড়িয়ে)
হ্যা আমিও. আমি আমার মিটিং এর জন্য দেরী করতে চাই না.

সারাঃ
(ওকে জড়িয়ে ধরে)
তোমাকে আবার দেখে খুব ভালো লাগলো, জেসন।

জেসন:
(তার পিঠে জড়িয়ে ধরে)
তুমিও সারাহ।

তারা একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যায়, এবং সারাহ চলে যায়, ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হওয়ার আগে জেসনকে শেষবারের মতো ফিরে তাকায়।

জেসন:
(আমার মুখোমুখি)
আমি আনন্দিত যে আমরা একে অপরের মধ্যে দৌড়েছি।

বিপরীত দিকে যাওয়ার আগে সে তার চলে যাওয়া দেখে।

বিবর্ণ.

বাচ্চা লিলি

পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি শান্ত, ঘুমন্ত শহরে, একটি দীর্ঘ, ঘোরা রাস্তার শেষে একটি বাড়ি ছিল। এটি একটি বৃহৎ, ভিক্টোরিয়ান-শৈলীর বাড়ি যেটি যতদিন কেউ মনে রাখতে পারে ততদিন ধরে ছিল। বহু লোক সেখানে বছরের পর বছর বসবাস করেছিল, কিন্তু বিশেষ করে একটি পরিবারের একটি মর্মান্তিক গল্প ছিল যা আগামী বছরের জন্য বাড়িটিকে তাড়িত করবে।

পরিবারটির লিলি নামে একটি ছোট মেয়ে ছিল, যেটি তাদের চোখের মণি ছিল। তার লম্বা, কোঁকড়ানো বাদামী চুল, উজ্জ্বল নীল চোখ এবং একটি হাসি যা যেকোনো ঘরকে আলোকিত করতে পারে। তিনি বাগানে খেলতে, ফুল তুলতে এবং বৃষ্টিতে নাচতে পছন্দ করতেন। কিন্তু একদিন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। লিলি ভয়ানক জ্বরে অসুস্থ হয়ে মারা গেল।

তার বাবা-মা হৃদয় ভেঙে পড়েছিলেন এবং তাদের প্রিয় কন্যার ক্ষতি থেকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারেননি। পরে তারা বাড়িটি খালি এবং পরিত্যক্ত রেখে চলে যায়। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে লিলির আত্মা কখনই বাড়ি ছেড়ে যায়নি। দর্শনার্থীরা দাবি করেছে যে তারা একটি সাদা পোশাক পরা একটি ছোট্ট মেয়েকে বাগানের চারপাশে এড়িয়ে যেতে দেখেছে বা খালি ঘর থেকে হাসি এবং গানের অস্পষ্ট শব্দ শুনেছে।

গুজব সত্ত্বেও কেউ বাড়িটি কিনতে চায়নি। তারা মৃত শিশুর ভূতের ভয়ে ভয় পেত যেটি এটিকে তাড়া করে। কিন্তু একদিন, রাহেল এবং ডেভিড নামে এক যুবক দম্পতি একটি সুযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা পুরানো ভিক্টোরিয়ান বাড়ির প্রেমে পড়েছিল এবং এর আকর্ষণকে প্রতিহত করতে পারেনি।

প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। র‍্যাচেল এবং ডেভিড বাড়ির সংস্কার ও সাজানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন, এটিকে তাদের নিজস্ব বানিয়েছেন। কিন্তু তারপর, অদ্ভুত জিনিস ঘটতে শুরু করে। দরজাগুলি নিজেরাই বন্ধ হয়ে যাবে, সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা যেত এবং রাতে হলগুলির মধ্যে একটি শিশুর হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হত।

রাহেল এবং ডেভিড ভয় পেয়েছিলেন কিন্তু তাদের স্বপ্নের বাড়ি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তারা বাড়ির ইতিহাস অনুসন্ধান করতে শুরু করে এবং লিলির মর্মান্তিক কাহিনী আবিষ্কার করে। তারা বিশ্বাস করেছিল যে তার ভূত তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে এবং চেষ্টা করার এবং যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এক রাতে, তারা লিলির আত্মার সাথে কথা বলার আশায় একটি ওইজা বোর্ড নিয়ে বাগানে বসেছিল। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিল, শেষ পর্যন্ত প্ল্যানচেট নিজে থেকেই চলতে শুরু করেছিল। তারা লিলিকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে সে সেখানে আছে কিনা এবং প্ল্যানচেট "হ্যাঁ" তে চলে গেল।

রাহেল এবং ডেভিড অবশেষে মৃত সন্তানের ভূতের সাথে যোগাযোগ করতে পেরে আনন্দিত হয়েছিল। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তার কিছু দরকার কিনা এবং সে উত্তর দিল যে সে শুধু খেলতে চায়। তারা তার জন্য কিছু খেলনা রেখে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তাকে সর্বদা মনে রাখবে।

তারপর থেকে, লিলির আত্মা সন্তুষ্ট ছিল। বাড়িতে অদ্ভুত ঘটনা বন্ধ হয়ে যায়, এবং রাহেল এবং ডেভিডের মনে হয়েছিল যে তারা একটি নতুন বন্ধু তৈরি করেছে। এমনকি তারা মাঝে মাঝে তাকে দেখতে শুরু করে, বাগানের চারপাশে এড়িয়ে যায় এবং তার খেলনা নিয়ে খেলা করে।

শেষ পর্যন্ত, র‌্যাচেল এবং ডেভিড বুঝতে পেরেছিলেন যে মৃত শিশুর ভূত ভয় পাওয়ার কিছু নয়, বরং আলিঙ্গন করার মতো কিছু। লিলি তাদের বাড়ির একটি অংশ হয়ে উঠেছে এবং তারা তার উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞ ছিল। পুরানো ভিক্টোরিয়ান বাড়িটি আর কেবল একটি ঘর ছিল না, তবে এমন একটি জায়গা যেখানে লিলির আত্মা চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে

Tuesday, 21 March 2023

মানুষের চিন্তা ও জটিলতা

 মানুষের চিন্তা ও জটিলতা।


সবাইকে অভিবাদন! আজ, আমি সবচেয়ে আশ্চর্যজনক এবং জটিল জিনিসগুলির মধ্যে একটি সম্পর্কে কথা বলতে চাই যা আমরা মানুষের অধিকারী - আমাদের চিন্তাভাবনা।


আমাদের চিন্তাধারাই আমাদেরকে একে অপরের থেকে অনন্য এবং আলাদা করে তোলে। তারা আমাদের বিশ্বাস, আমাদের মূল্যবোধ এবং আমাদের ব্যক্তিত্বকে গঠন করে। তারা আমাদের কল্পনা করতে এবং তৈরি করতে, প্রতিফলিত করতে এবং শিখতে, পরিকল্পনা করতে এবং স্বপ্ন দেখতে দেয়।


কিন্তু আপনি কি কখনো ভাবতে থেমেছেন যে চিন্তাটা আসলে কী? এটা কিভাবে আমাদের মনে গঠন করে? এর সৃষ্টি এবং প্রকাশের সাথে কোন প্রক্রিয়া জড়িত?


ঠিক আছে, সত্য হল, মানুষের মস্তিষ্ক এখনও বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা রহস্য। বছরের পর বছর গবেষণা এবং অধ্যয়ন সত্ত্বেও, আমরা এর জটিল কাজগুলি বোঝার পৃষ্ঠটি কেবল আঁচড় দিয়েছি।


যাইহোক, আমরা যা জানি তা হল চিন্তাগুলি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন এবং সিন্যাপসের মধ্যে জটিল মিথস্ক্রিয়াগুলির ফলাফল। যখন আমরা কিছু অনুভব করি, তা সে একটি সংবেদন, একটি শব্দ বা একটি ধারণাই হোক না কেন, আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলি বৈদ্যুতিক সংকেত গুলি করতে শুরু করে যা স্নায়ুপথের মাধ্যমে ভ্রমণ করে। এই সংকেতগুলি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, প্যাটার্ন এবং অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে যা অবশেষে চিন্তার জন্ম দেয়।


এবং এটি কেবল আমাদের অভিজ্ঞতা নয় যা আমাদের চিন্তাভাবনাকে রূপ দেয়। আমাদের আবেগ, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধগুলিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা উদ্বিগ্ন বা চাপ অনুভব করি তবে আমাদের মস্তিষ্ক নেতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি করতে পারে যা আমাদের অস্বস্তির অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে। অন্যদিকে, যদি আমরা সুখী এবং আশাবাদী বোধ করি তবে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলি আরও ইতিবাচক এবং উত্থান হতে পারে।


সুতরাং, মানুষ হিসাবে আমাদের জন্য এই সব মানে কি? ঠিক আছে, এক জিনিসের জন্য, এটি আমাদের চিন্তা প্রক্রিয়ার অবিশ্বাস্য জটিলতা এবং বৈচিত্র্যকে হাইলাইট করে। কোন দু'জন মানুষ একইভাবে চিন্তা করে না, এবং আমাদের চিন্তাভাবনা ক্রমাগত বিকশিত এবং পরিবর্তিত হয় যখন আমরা বেড়ে উঠি এবং শিখি।


এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার যত্ন নেওয়ার গুরুত্বকেও বোঝায়। যখন আমাদের চিন্তাভাবনা খুব নেতিবাচক বা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, তখন এটি আমাদের জীবন এবং সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই যখন আমরা সংগ্রাম করছি তখন সাহায্য চাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য ধরনের সহায়তার মাধ্যমেই হোক না কেন।


উপসংহারে, আমাদের চিন্তা আমাদের মানুষ করে তোলে তার একটি আকর্ষণীয় এবং অপরিহার্য অংশ। তারা আমাদেরকে অনন্য এবং অর্থপূর্ণ উপায়ে বিশ্বকে অনুভব করতে এবং অন্যদের সাথে এমনভাবে সংযোগ করার অনুমতি দেয় যা গভীর এবং রূপান্তরকারী উভয়ই। সুতরাং, আসুন আমাদের চিন্তাভাবনা লালন করি, এবং মানুষের মনের রহস্যগুলি অন্বেষণ চালিয়ে যাই। ধন্যবাদ.